Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় ৬০৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
আগস্ট ৮, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি

খুলনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষক সংকট কাটছে না। জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। ফলে জেলার অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৬০৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৫৩ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে।

উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ডুমুরিয়ার ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৩টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। পাইকগাছার ১৬৭টির মধ্যে ৭৩টি, কয়রার ১৪২টির মধ্যে ৮৫টি, দাকোপের ১১৯টির মধ্যে ৫৫টি, বটিয়াঘাটার ১১৫টির মধ্যে ৫২টি, তেরখাদার ১০২টির মধ্যে ৬২টি, রূপসার ৬৮টির মধ্যে ৩৭টি, ফুলতলার ৫৭টির মধ্যে ৩৯টি এবং দিঘলিয়ার ৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

খুলনা মহানগরেও একই চিত্র দেখা গেছে। থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের সাতটি ক্লাস্টারের মোট ১২৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে।

ক্লাস্টারভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ১ নম্বর ফুলবাড়ি বি কে ক্লাস্টারের ১৭টি বিদ্যালয়ের চারটিতে, ২ নম্বর বীণাপাণি ক্লাস্টারের ১৯টির নয়টিতে, ৩ নম্বর স্যাটেলাইট ক্লাস্টারের ১৫টির পাঁচটিতে, ৪ নম্বর কাজী আব্দুল বারী ক্লাস্টারের ১৭টির সাতটিতে, ৫ নম্বর সোনাডাঙ্গা ক্লাস্টারের ২৩টির দুটিতে, ৬ নম্বর সোনাপোতা ক্লাস্টারের ২০টির ছয়টিতে এবং ৭ নম্বর দক্ষিণ টুটপাড়া ক্লাস্টারের ১৬টির ছয়টিতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

থানা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সদরের জহির উদ্দিন গণবিদ্যালয় ও সোনাডাঙ্গা আবু বকর খান আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে মামলা চলমান থাকায় আপাতত সেখানে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। তবে নগরীর প্রাণকেন্দ্রের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ক্লাস্টারে শিক্ষকরা শহরমুখী হওয়ায় শিক্ষক সংকট তুলনামূলক কম। অন্য চারটি ক্লাস্টারে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক সংকট বেশি।

শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, খুলনায় সহকারী শিক্ষক সংকটও রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬ হাজার ৩০৭টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৭ জন। ফলে জেলায় ৩৯৮টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ নানা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না।

বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের সংখ্যাও কম, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ বাড়ার পাশাপাশি এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম তদারকি এবং একাডেমিক ব্যবস্থাপনায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন বড় পরিসরে সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া, পদোন্নতি জটিলতা এবং আইনি জটিলতার কারণে শূন্য পদ ক্রমেই বেড়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ও চাকরি স্থায়ীকরণের শর্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ‘অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিধিমালা-২০১৩’-এর একটি ধারা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১৯ সালের মার্চে হাইকোর্ট জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেন। পরে সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি বাধা দূর হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি এবং পিএসসির মাধ্যমে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খুলনা সদরের থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম বলেন, সদরের বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের তদারকি ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করায় পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে আইনি বাধা দূর হওয়ায় পদোন্নতি ও নিয়োগের মাধ্যমে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।