মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে মাটির নিচ থেকে ৯৬টি অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক মাটির নিচে থাকার পরও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে রাস্তা মেরামতের জন্য মাটি কাটার সময় প্রথম মাইনসদৃশ বস্তুগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাদু শাহ জানান, বাড়ি তৈরির ইট আনার সুবিধার জন্য রাস্তার পাশের একটি উঁচু স্থান থেকে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলা হয়েছিল। সম্প্রতি বৃষ্টির পানিতে ওই মাটি ধুয়ে যাওয়ার পর একটি প্লাস্টিকের টুলবক্স ও এর ভেতরে মাইনসদৃশ বস্তু দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে। দুর্ঘটনা এড়াতে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হলে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
সোমবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে মাইন উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেজর তরিকুল ইসলাম।
সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ৭৯টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন উদ্ধার করে। পরে মাইনগুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানীয় মধুগাড়ী নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সেনাবাহিনীর ১৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ বম্ব ডিসপোজাল দলের নেতৃত্ব দেওয়া মেজর তরিকুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া মাইনগুলো শক্তিশালী ছিল। নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় দুটি মাইন বিস্ফোরিত হলে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় এসব মাইন ওই এলাকায় পুঁতে রাখা হয়েছিল। প্রায় ৫৫ বছর পর মাটির নিচ থেকে মাইনগুলো উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

