সাজ্জাদুল তুহিন, মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় এবারের দাখিল পরীক্ষায় পাঁচটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ৫৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে একজনও।
শতভাগ ফেল করা পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি এমপিওভুক্ত ও দুটি নন-এমপিওভুক্ত। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা, কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা ও রামনগর দাখিল মাদ্রাসা। নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা ও এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২৮ জন। পরীক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, কুসুম্বা শাহী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৯ জন, রামনগর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন, চকরঘুনাথ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন এবং এলেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৫৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পরীক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। নিয়মিত মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান ও বিশেষ প্রস্তুতির ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চকদেবীরাম-চকভোলাই আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, “এবার আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অত্যন্ত হতাশার বিষয়, তাদের সবাই ফেল করেছে।”
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

