অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় কয়েক দিন ধরে দমকা হাওয়া, থেমে থেমে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। পায়রা বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া একের পর এক ট্রলার ঘাটে ফিরছে।
বুধবার সকালে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর ও খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফিরে আসা কয়েকটি মাছধরা ট্রলারের জেলে, মাঝি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলেরা জানান, সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার অনুকূল পরিবেশ নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে ১০ থেকে ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলেও মাত্র এক-দুই দিন মাছ ধরার পরই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে ঘাটে ফিরে আসতে হচ্ছে।
জেলে জামাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে ঠিকমতো মাছ ধরা যাচ্ছে না। এতে একদিকে মাছের পরিমাণ কমছে, অন্যদিকে ট্রলার পরিচালনার বিপুল খরচও উঠছে না।
জেলেদের ভাষ্য, ইলিশ মৌসুম শুরুর আগে দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা মাছ ধরতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞা শেষে নতুন করে সাগরে নামার পর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়া তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশানুরূপ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে ও ট্রলার মালিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলীয় মৎস্যনির্ভর জনপদে হতাশা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। আবার দাদনের দায়ে অনেকে বাধ্য হয়ে মাছ ধরার পেশায় টিকে আছেন।
জেলেদের দাবি, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।

