দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোপাখালী খালে ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অবৈধভাবে জাল ফেলে মাছ শিকার ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খালে জাল ফেলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে খালটি ১৪৩২ বঙ্গাব্দে ইজারা ছিল। চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দেও ইজারা পাওয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এর বিরুদ্ধে গোপাখালী রহিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আনজার আলী হাইকোর্টে রিট করেন। পরে ৬ মে ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট খাল উন্মুক্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দ্রুত খালটি ইজারা দেওয়ার নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরবর্তীতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাওসার আজিজের সভাপতিত্বে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গত ১২ মে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী খালটি পুনরায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গোপাখালী জামায়াতের ইউনিট সেক্রেটারি শাহ আলমের নেতৃত্বে গোপাখালী মাঠসংলগ্ন এলাকায় জাল ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ, আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি খালে অবৈধভাবে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন। এতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সদর ইউনিয়নের তহশিলদার ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ জাল উচ্ছেদ করেন। তবে এর পরও অভিযুক্তরা ফের খালে জাল ফেলছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালে অবৈধভাবে জাল ফেলা বন্ধ না হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

