সুব্রত সরকার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মৌসুমের শুরুতে সোনালী আঁশ পাটের ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে ফুটেছিল স্বস্তির হাসি। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাটের দাম মণে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত কমে যাওয়ায় সেই হাসি এখন ম্লান হয়ে গেছে। উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার হাজারো পাটচাষি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মহম্মদপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে খরা ও সেচ সংকট দেখা দিলেও পরবর্তীতে অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমে মাঠে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে হঠাৎ বাজারে দরপতন হওয়ায় বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের ভাষ্য, একসময় নতুন পাট হাটে বিক্রি করে ঘরে ফেরার সময় কেজি দরে ইলিশ মাছ কিনে নেওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু বর্তমান বাজারে এক কেজি বড় ইলিশ কিনতেই প্রায় এক মণ পাটের সমান অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
মহম্মদপুরের ঢুষরাইল গ্রামের পাটচাষি প্রতাপ হোসেন বলেন, পাট কাটার জন্য শ্রমিককে দিনে ১ হাজার ২০০ টাকার কম মজুরি দিতে হয় না। একজন শ্রমিক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ আঁটি পাট কাটতে পারেন। এর বাইরে জমি প্রস্তুত, চাষ, নিড়ানো, বাঁধাই ও জাগ দেওয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বড় অঙ্কের খরচ হয়।
তিনি আরও বলেন, খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক দূরে গিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহনসহ বাড়তি খরচ হচ্ছে। কয়েক দিন আগেও পাটের ভালো দাম থাকায় কৃষকের মনে স্বস্তি ছিল। এখন যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না।
স্থানীয় পাট ব্যবসায়ী মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ার প্রভাব দেশীয় পাটের বাজারেও পড়েছে। ফলে রফতানিকারক ও আড়তদাররা কম দামে পাট কিনছেন।
মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারদরের কারণে কৃষকরা যে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ অবগত।
তিনি বলেন, কৃষকরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য পান, সেটিই প্রত্যাশা। সরকারিভাবে ধান কেনার মতো পাটও যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে কেনার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে পাটের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে।

