দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাদক প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য এখন সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি ফোনে অর্ডার দিলেই ‘হোম ডেলিভারি’র মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় দৌলতপুরে দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের বিস্তার রয়েছে। বর্তমানে মাদক কারবারিরা সরাসরি বিক্রির পরিবর্তে বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনকল ব্যবহার করে ক্রেতার কাছে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। এতে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতার সঙ্গে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতাও বেড়েছে। রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক পানির মোটর, গরু-ছাগল, মুরগি ও গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনার সঙ্গে মাদকাসক্তদের একটি অংশ জড়িত বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ ও থানার আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের একাধিক স্পট রয়েছে। সীমান্ত এলাকার আদাবাড়িয়া, প্রাগপুর, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এবং পদ্মা নদীর নৌপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ২৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ১৬১ কেজির বেশি গাঁজা, ২৫ হাজার ৭২টি ইয়াবা, ২ কেজির বেশি হেরোইন, ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৮টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। এছাড়া গত এক সপ্তাহেও সীমান্ত এলাকায় প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
অপরদিকে, দৌলতপুর থানা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মাদকসংক্রান্ত ১০৬টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকলেও পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক ঢোকাচ্ছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও দুর্গম সীমান্ত এলাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের দাবি, সীমান্তে মাদক প্রবেশ বন্ধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার ও ‘হোম ডেলিভারি’ চক্র শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত তরুণদের পুনর্বাসন ও পরিবারভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

