দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
ভারতের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সংবাদকর্মী দেবাশীষ দত্তসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন—আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শারমিন মনীষা (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)।
জানা গেছে, আফসানা শারমিন মনীষার উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা ভারতে গিয়েছিলেন। বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তারা মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন। বুধবার কলকাতা থেকে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর আগেই মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার শ্বশুর আকরাম আলী শহরের থানাপাড়া এলাকায় থাকতেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
শোকাহত পরিবারে গিয়ে দেখা যায়, দেবাশীষ দত্তের ছয় বছরের মেয়ে মাহিমা দত্ত নির্বাক হয়ে বসে আছে। বাবা দেবাশীষ দত্ত, মা আফসানা শারমিন মনীষা, ছোট ভাই স্বর্ণশীষ দত্ত ও নানা আকরাম আলীকে হারিয়ে সে যেন বাকরুদ্ধ। মাঝে মধ্যে অস্ফুট স্বরে শুধু বলছে, ‘আমার বাবা মারা গেছে।’
সন্তান হারিয়ে দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্তের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আড়ুয়াপাড়ার পরিবেশ। পরিবারের সদস্য, স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের কান্নায় সেখানে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় পত্রিকা ‘আজকের আলো’র সম্পাদনার দায়িত্বেও ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহকর্মীরা এ মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না।
স্বজন ও সাংবাদিকরা দ্রুত নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হোক।
মৃত্যু অনিবার্য হলেও একই পরিবারের চারজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কুষ্টিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে ছোট্ট মাহিমা দত্তের সামনে একসঙ্গে বাবা, মা, ভাই ও নানাকে হারানোর এই শোকের ঘটনা হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে।

