দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তিন শিশুশিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় মো. আলী হাসান (২৫) নামে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আসামি আলী হাসান দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার তিখুর গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে। বিরামপুরের খানপুর ইউনিয়নের ওই হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে তিন শিশু দীর্ঘদিন ধরে লেখাপড়া করছিল।
এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় শিশুদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দিয়ে তার শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতন করতেন। ঘটনা জানালে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হতো। গত ২৬ আগস্ট সকালে এক শিশুকে এবং ১ সেপ্টেম্বর রাতে অপর দুই শিশুকে মাদ্রাসার শয়নকক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুরা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে মানুষ করার আশায় আমরা তাদের মাদ্রাসা ও আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেখে যাই। শিশুরা ভয় বা চাপের কারণে অনেক সময় ঘটনা জানাতে পারে না। তাই প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি, জবাবদিহি এবং নিরাপদ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ ঘটনায় এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে ৪ সেপ্টেম্বর বিরামপুর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
বিরামপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

