ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো ডুবে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় কয়েকশ খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত, আবার কোথাও সড়কের পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। রোগী বহনকারী যানবাহনসহ শত শত যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে যানবাহন কখনো সড়কের মাঝখান দিয়ে, আবার কখনো একেবারে কিনারা ঘেঁষে চলাচল করছে। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষ কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুর বা খাদে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদ শেখ বলেন, “রাস্তা ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে।”
নছিমনচালক কায়েম বিশ্বাস বলেন, “গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয় থাকে।”
সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় এক ভ্যানচালক জানান, কিছুদিন আগে একটি পিকআপ তাঁর ভ্যানে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও সড়কের বর্তমান অবস্থায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাচু শেখ বলেন, খালেক মাতুব্বরের বাড়ির কাছে, সেলিম শিকদার, তুজাম শিকদার, কালাম, সিরাজ, হাবিবুর রহমান, নজরুল ও রেজাউলের বাড়ির সামনে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এসব স্থানে প্রায়ই যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পূর্ণেন্দু সাহা বলেন, “সাতৈর-ডোবরা-দাদপুর সড়কটি প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি ফরিদপুর-রাজবাড়ী প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সড়কটির কাজ শুরু হবে।”
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, “উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকল্প অনুমোদন ও সংস্কারকাজ শুরুর অপেক্ষায় আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হবে? তাদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার শুরু না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বড় গর্তগুলো ভরাট ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করা হোক।

