আশরাফুজ্জামান, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মিষ্টার আলম (C.V.F) পরিচালিত ‘স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা’র ৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, শিক্ষামূলক প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর-বাড়াইপাড়া এলাকায় দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ‘স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা’। প্রতিষ্ঠানের ৮ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, জ্ঞান, মেধা ও উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ডিসপ্লে ও প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়।
প্রদর্শনীতে বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি, জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় দিক শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির সঠিক ও শিক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সুন্দর হাতের লেখা, সৃজনশীল উপস্থাপনা ও বিভিন্ন ডিসপ্লের মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরে। এসব আয়োজন উপস্থিত অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
আয়োজক মিষ্টার আলম বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে। তাদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই ‘স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা’র অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণ করেন পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আশরাফুজ্জামান সরকার, সাংবাদিক ওমর ফারুক ও শিক্ষক জুয়েল রানা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মিষ্টার আলম।
আয়োজকরা জানান, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা, তাদের নিয়মিত শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং সচেতন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই ‘স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা’র মূল উদ্দেশ্য। আগামী দিনেও শিক্ষামূলক, সামাজিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

