রিপন হোসেন সাজু, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাত যোগ হয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়ায় মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া, মনোহরপুর, হরিদাসকাটি, ঢাকুরিয়া, নেহালপুর ও দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে কুলটিয়া, হরিদাসকাটি ও দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোজাফ্ফর হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি উঠেছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠ ও বারান্দায় পানি উঠলেও কষ্ট করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
পানিতে আক্রান্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুলটিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পোড়াডাঙ্গা আরসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগডাঙ্গা দহাকুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিএইচএমএস নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এজিএম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লখাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নেবুগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচকাটিয়া পাঁচবাড়িয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হরিনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুশখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভবানীপুর রামোত্তম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রজিপুর কেএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চান্দুয়া সমসকাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শামছুল আলম জানান, অতিবর্ষণে ভবদহসংলগ্ন ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। এর মধ্যে ভূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজাতপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বয়ারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষে হাঁটুসমান পানি জমেছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যত্র বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিলপাড়িয়ালী ডাঙ্গামহিষদীয়া, লখাইডাঙ্গা, কামীনিডাঙ্গা, বাহিরঘরিয়া, মনোহরপুর খন্দকারবাড়ি, ভবানীপুর, পদ্মনাথপুর, বাজেকুলটিয়া, দিগঙ্গা কুচলিয়া, পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া, সমসকাটি, হাজিরহাট, মধ্যপাড়া, কাজিরগ্রাম পাঁচবাড়িয়া এবং হাটড়াছা সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও বারান্দায় পানি উঠেছে। তবে এসব বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দুই মাস ধরে পানি জমে আছে। বিদ্যালয়ের মাঠের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষেও কোমরসমান পানি রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলসী দাস মল্লিক বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি থাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে হাজিরহাট বাজারে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ভূলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের একমাত্র রাস্তায় হাঁটুপানি জমে রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অবস্থাও নাজুক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্য বিশ্বাস বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দূরের একটি বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠদান করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন বলেন, ভবদহসংলগ্ন এলাকা হওয়া এবং এর ওপর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বসতবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
দীর্ঘদিনের ভবদহ জলাবদ্ধতার সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাত যুক্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

