ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথায় সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের দায় নেওয়ার বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি সভায় রফিক মোল্লাকে সমর্থকদের উদ্দেশে অস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিতে এবং কোনো ‘মার্ডার’ (হত্যাকাণ্ড) হলে তা তিনি দেখবেন—এমন কথা বলতে শোনা যায় বলে ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তাঁর দাবি, ভিডিওটি প্রযুক্তিগতভাবে সম্পাদনা (এডিট) করে প্রচার করা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন করতে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার ব্যাখ্যায় চেয়ারম্যান বলেন, “আমার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকেরা মারধর করে ভ্যান ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি কোনো আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়েছি এবং এলাকা শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।”
এদিকে ভিডিওটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

