Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দওলাপাড়ায় ফুটবল ঘিরে একদিনের জন্য যেন পুরো গ্রামই এক পরিবার

মো. ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি

এক মাঠে ফুটবল, গ্যালারিতে শিশু থেকে প্রবীণ—কেউ খেলোয়াড়, কেউ দর্শক। মাঠের পাশে মায়েরা, বোনেরা, স্ত্রী, খালা, দাদি আর পরিবারের অন্য সদস্যদের সরব উপস্থিতি। খেলা শেষে আবার সবাই মিলে একই আয়োজনে খাবার গ্রহণ। যেন ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, একদিনের জন্য পুরো গ্রামই পরিণত হয়েছিল এক বড় পরিবারে।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দওলাপাড়া ফুটবল মাঠে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সারাদিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর দ্বিতীয় আসর। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে দওলাপাড়া এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দওলাপাড়া গ্রামবাসীর আয়োজনে এবং জেড.এম. ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, শালবাগান, বিরামপুরের সৌজন্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে গ্রামের বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একাধিক দল অংশ নেয়। মাঠে দেখা যায় সিনিয়র কোবরা, টিম লায়ন্স, নাইট কিংস, টিম টাইগার্স, ডার্ক হর্স, সিনিয়র পাইথন, জুনিয়র কোবরা, জুনিয়র পাইথন, দওলাপাড়া ওরিয়স, দওলাপাড়া ভাইপার ও দওলাপাড়া স্পেশাল টিমসহ বিভিন্ন দল। ছিল শিশুদের অংশগ্রহণ এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ষাটোর্ধ্বদের দল।

তবে এই আয়োজনের ব্যতিক্রমী দিক শুধু ফুটবল মাঠে সীমাবদ্ধ ছিল না। গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই টুর্নামেন্টটিকে পরিণত করে এক মিলনমেলায়।

একই মাঠে খেলেছেন একাধিক প্রজন্মের মানুষ। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ ও নবীনরা মাঠে নেমেছেন। অংশ নিয়েছে শিশুরাও। ফলে ফুটবল মাঠটি হয়ে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের মিলনস্থল।

দর্শকসারিতেও ছিল একই চিত্র। গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ খেলেছেন, কেউ খেলা দেখেছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মা-বোন, স্ত্রী, খালা, দাদি ও শিশুরাও উপস্থিত ছিলেন মাঠের চারপাশে। তাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন রূপ নেয় পারিবারিক উৎসবে।

দিনভর বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ শেষে ছিল আরও একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন—সবার জন্য খাবার। পুরস্কার বিতরণের আগে অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিতদের জন্য মাংস ও খিচুড়ির আয়োজন করা হয়। সবাই একসঙ্গে খাবার গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তৈরি হয় সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দ ভাগাভাগির পরিবেশ।

টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে মাঠের উত্তেজনা আরও বাড়ে। পুরো আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করেন Birampur Sports Zone ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন টিমন মার্ডি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মিয়া মো. শিরণ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার আমির মামুনুর রশিদ, পৌর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার শাহিনুর ইসলাম, বিরামপুর পৌর যুবদলের সদস্যসচিব পলাশ বিন আশরাফী, পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য পলাশ চন্দ্র কুমার সরকার, বিরামপুর সৌখিন ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

ফাইনাল খেলায় ট্রাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন হয় নাইট কিংস। অতিথিরা চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। পাশাপাশি রানার্সআপ দল, অংশগ্রহণকারী দল ও সেরা খেলোয়াড়দেরও পুরস্কৃত করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এই টুর্নামেন্টের উদ্দেশ্য শুধু জয়-পরাজয় নির্ধারণ নয়। গ্রামের মানুষকে একত্রিত করা, প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা এবং তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

আয়োজন থেকে দেওয়া হয়েছে একটি সামাজিক বার্তাও—‘মাদককে না বলি, ক্রীড়াকে হ্যাঁ বলি।’ খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

দওলাপাড়ার এই আয়োজন যেন দেখিয়ে দিল—ফুটবল শুধু গোল আর জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। একটি ফুটবলকে ঘিরেও একটি গ্রামের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়াতে পারে, প্রজন্মের ব্যবধান ভুলে একই আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সবাই একই গ্রামের মানুষ, একই পরিবারের সদস্য—দিনব্যাপী এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য যেন এটাই।

খেলা শেষ হয়েছে, পুরস্কারও বিতরণ হয়েছে। কিন্তু দওলাপাড়া ফুটবল মাঠে তৈরি হওয়া সেই মিলনমেলার স্মৃতি গ্রামের মানুষের মনে থেকে যাবে অনেকদিন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।