কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে একই সময়ে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা একটি আবেদনপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রঞ্জন মল্লিক ও সদস্য সচিব মো. মান্নান শেখ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সুজন মোল্লাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের কারণে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকায় কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সুজন মোল্লার নামে ছড়িয়ে পড়া অব্যাহতির আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে যথাযথ সময় ও দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন।
এ নিয়ে সুজন মোল্লাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, নাকি তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সুজন মোল্লা বলেন, “আগামীতে আমরা ইউপি নির্বাচন করব। এলাকার রাজনীতির কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি নিজেই অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
তবে কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. মান্নান শেখ বলেন, “সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে দলীয় পদ অপব্যবহার ও পদের ক্ষমতা দেখিয়ে নানা ধরনের অপকর্ম করার অভিযোগ এসেছিল। এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
সুজন মোল্লা অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্নান শেখ বলেন, “সুজন মোল্লা অব্যাহতির আবেদন দেওয়ার আগেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে বুঝতে পেরেছিল তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে, তাই সে অব্যাহতির আবেদন করেছিল।”

