মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় সরকারি অর্থায়নে নির্মাণাধীন বাঁধের কাজেও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে বাঁধ নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে ওই নেতাকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. জাহাঙ্গীর মাদবর টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খোকন কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ম্যানেজার মো. সাগির হোসেন অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরুর পর থেকেই জাহাঙ্গীর মাদবরের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজে যুক্ত শ্রমিকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাগির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করায় তাঁরা কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান। এতে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হয়ে জাহাঙ্গীর মাদবরকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে আসছে।
তবে চাঁদা বা মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর মাদবর। তিনি বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করি। তবে সহযোগিতার বিনিময়ে আমি কোনো টাকা নিই না।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প। এ প্রকল্পের কাজকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, “অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি প্রকল্পের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

