স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় কৃষক মানসুর মোল্যা (৪৫) হত্যা মামলার অভিযুক্ত হাসিব মোল্যা (২০) থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালিয়া থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
হাসিব উপজেলার কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে। এর আগে শনিবার রাতে কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড় এলাকায় মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলামকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহত নূর ইসলামকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাসিব মোল্যা থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি। জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। তাদের দাবি, গত শুক্রবার পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিবের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাসিব কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারেন।
এ ঘটনার জের ধরে শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদমতলা ত্রি-মোহনার মোড়ের একটি দোকানে যান। সেখানে কাসেদ মোল্যার চাচাতো ভাই মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলাম তার কাছে কাসেদকে মারধরের কারণ জানতে চান। এ সময় হাসিব জামার পেছন থেকে চাপাতি বের করে তাদের দুজনকে কোপান বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
পরে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেওয়ার পথে জামরিলডাঙ্গা ফুটবল মাঠের কাছে তার মৃত্যু হয়। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে।
ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যা বলেন, ‘হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদক সেবন করতে নিষেধ করায় সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। পরে চাপাতি দিয়ে মানসুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হাসিবের সঙ্গে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না।’
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণের পর হাসিবকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

