দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে সড়কির আঘাতে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত টেঙ্গুর ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আজাহার মেম্বারের পক্ষের সঙ্গে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পটলের পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ভারত থেকে আসা মাদককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর গত দুই দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পটল পক্ষের টেঙ্গুর পেটে সড়কির আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পদ্মা নদীপথে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষে সুমন মিয়া (৫০), হাদু মন্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মন্ডল (৬০) ও রাজু মন্ডল (৩০) আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, সীমান্তসংলগ্ন চড়ইকুড়ি গ্রামের আজাহার মেম্বার ও পটল পক্ষের মধ্যে গত দুই-তিন দিন ধরে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে টেঙ্গুর নামে একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত বলে তিনি জানান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় টেঙ্গুর নামে একজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। সেখানে পৌঁছানোর পর বিস্তারিত জানা যাবে।
ছবি : সংঘর্ষে নিহত টেঙ্গুর ও আহতরা।

