নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান থেকে দুর্ধর্ষ আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও তার বোনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনার জানান, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাসহ ২৯ আসামিকে স্কট করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে কৌশলে পালিয়ে যায় পিচ্চি রাজা। এ ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হলে জিএমপি ডিবি (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিজানুর ইসলামকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে তাঁতীবাজারের পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। খাইরুল বাশার প্রিজনভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর ভ্যানে ওঠেননি।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সেখান থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাইমাইল এলাকায় প্রিজনভ্যানে ওঠেন এবং পিচ্চি রাজা প্রস্রাব করতে গিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছেন—এমন একটি ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিএমপি কমিশনার আরও জানান, ঘটনার সময় প্রিজনভ্যানে থাকা আরও তিন পুলিশ সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। পিচ্চি রাজা যে স্থান থেকে পালিয়েছেন বলে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক নয় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পালানোর স্থান নিয়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

