পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করে ১৭ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তারা দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ পান করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মাথা ঘোরা, পেটব্যথা, খিঁচুনি ও দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণের সময় রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো দেখতে পান শিক্ষকরা। কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায়ও দেখা যায়। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে দুধের প্যাকেটের ছবি পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে মনোয়ার হোসেন নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। পরে শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়। দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ জনে দাঁড়ায়।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, ‘দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমার মাথা ও পেটব্যথা শুরু হয়। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন বলেন, ‘দুধ বিতরণের সময়ই কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু দুধ দইয়ের মতো দেখতে পাই। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়ে দুধ বিতরণ না করার কথা বলি। কিন্তু স্কুল ফিডিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এসে নিজে দুধ খেয়ে সবাইকে খেতে বলেন। এরপরই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিমন দেবনাথ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬-১৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে এসেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সবার অবস্থা স্থিতিশীল। অনেকেই ভালো আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তাদের গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুধের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

