দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে, এর আগের দিন শনিবার একই উপজেলার জামালপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে সাহাজুল (৩০) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক আহত হন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে দৌলতপুরের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া সীমান্ত দিয়ে নদীপথে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তাঁদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। পরে তাঁরা নৌকায় করে মুন্সিগঞ্জ সীমান্তে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন ও বিজিবি সদস্যদের নজরে আসেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাঁদের মাথাভাঙ্গা নদী পার করে সীমান্ত পিলার ১৫৩/৯-এস থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করেন।
পরে ভারতের ভূখণ্ডে একটি ফসলি জমিতে অবস্থান নেওয়া ওই চারজনকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার অধীন ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের উদয় কিষাণ ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর সীমান্তে নিজের জমিতে কাজ করার সময় বিএসএফের গুলিতে আহত হন কৃষক সাহাজুল। অভিযোগ রয়েছে, ভারতের ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নাসিরাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা বিনা উসকানিতে গুলি চালালে তিনি আহত হন। খবর পেয়ে জামালপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএসএফের আমন্ত্রণে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির কঠোর প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, রোববারের পুশইন চেষ্টার পর সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতার কারণে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে চার ভারতীয় নাগরিককে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।
তিনি আরও জানান, সীমান্তে বিএসএফের এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিজিবির প্রতিবাদের ভাষা আগের চেয়ে আরও কঠোর হয়েছে।

