এন এম নুরুল ইসলাম, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচির খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আগ্রহও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শুধু বালিয়াডাঙ্গীতে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এর আওতায় খাবার পাচ্ছে। সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে ডিম, কলা, বনরুটি, বিস্কুট ও ইউএইচটি দুধ।
এর মধ্যে ডিম, বনরুটি ও কলা সরবরাহ করছে ইএসডিও এবং বিস্কুট সরবরাহ করছে প্রাণ। তবে কিছুদিন আগে ইউএইচটি দুধ পান করার পর অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর আপাতত দুধ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্কুল ফিডিং প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মো. নূর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইএসডিওর দল নিয়মিত পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে। খাবারের মান নিশ্চিত হওয়ার পরই তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে, পড়াশোনায় আগ্রহ তৈরি হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যগত উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি সুস্থ ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষকরাও বলছেন, নিয়মিত মিড ডে মিল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়েছে। খাবারের সময়টুকু শিশুদের কাছে আনন্দের হলেও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার বিতরণের সময় শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ নিয়ে খাবার গ্রহণ করছে। শিক্ষকদের মতে, এ উদ্যোগ শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মিড ডে মিলের উদ্দেশ্য শুধু খাবার বিতরণ নয়; শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। তাই খাবারের মান বজায় রাখা এবং কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। বালিয়াডাঙ্গীর ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য চালু এ কর্মসূচিকে পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষায় আগ্রহ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

