দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, ফকির লালন সাঁইয়ের শিক্ষা স্কুলেও পৌঁছে যাক বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনারের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে গিয়ে লালন উৎসব উদযাপনে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান। স্কুলভিত্তিক কর্মসূচি রয়েছে কি না এবং শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, সে বিষয়েও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান, লালনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাক।
লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে পরিচয়কেন্দ্রিক নানা সংঘাত তৈরি হয়েছে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয়কে কেন্দ্র করে মানুষ সংঘাতে জড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লালনের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ফকির লালন জাত, ধর্ম ও লিঙ্গসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশ্বে অশান্তি দূর করতে তাঁর দর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কুষ্টিয়া লালন একাডেমির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, একদিন কুষ্টিয়া লালন নগরী হবে। এখানে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতী নদীতে আবার নৌকা চলবে। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম। পরে সাধুদের পরিবেশনায় লালনসংগীত পরিবেশিত হয়।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় গুরুকর্মের মধ্য দিয়ে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গ শুরু হয়েছে। রোববার দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

