ফরিদপুর প্রতিনিধি
একদিকে মসজিদে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে দুই পাশে দুর্গাপূজার মণ্ডপে কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ। ধর্মীয় আচার পালনে নেই কোনো বিরোধ, বরং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতায় প্রায় তিন দশক ধরে বজায় রয়েছে সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। ফরিদপুর শহরের ভাঙা রাস্তার মোড়সংলগ্ন মডেল মসজিদ এবং এর দুই পাশে জেলা বাস মালিক সমিতি ও জেলা মিনিবাস মালিক সমিতির দুটি পূজামণ্ডপের সহাবস্থান যেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে এলাকায় বিরাজ করছে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করছেন। নামাজের সময় মণ্ডপে বাদ্যযন্ত্রের শব্দ বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক শহর। মাঝখানে মসজিদ এবং দুই পাশে পূজামণ্ডপ থাকলেও কখনো ধর্মীয় ভেদাভেদ তৈরি হয়নি। পরস্পরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থান করছেন। দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই ফরিদপুরে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস ও উৎসব পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে রাজনৈতিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের আনসার ব্যাটালিয়নের উপপরিচালকের পক্ষে মাদারীপুর আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তানজিনা জানান, এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। একই জায়গায় মসজিদ ও পূজামণ্ডপের এমন সহাবস্থান সারা দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সুষ্ঠু ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
ফরিদপুরবাসীর প্রত্যাশা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের এই বন্ধন আগামী দিনেও অটুট থাকবে। ধর্ম যার যার, উৎসব ও সম্প্রীতির বন্ধন সবার—এমন বার্তাই যেন দিচ্ছে শহরের এই মসজিদ ও দুই পাশের পূজামণ্ডপ।

