মোঃ জসিম উদ্দিন,দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পবিপ্রবি’র শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর লোনের কিস্তির টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা না করে প্রায় ২ কোটি ৬০ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক।
রবিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় দুর্নীতি দমন কমিশন পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপষ বিশ্বাস এর নেতৃত্বে একটি টিম পবিপ্রবিতে প্রবেশ করে তদন্ত কাজ শুরু করেন।
তদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ মোতাবেক পবিপ্রবি’র লোন শাখার পেনশন বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে দায়িত্বরত আবু সালেহ মোঃ ইছার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের লোনের কিস্তি বাবদ প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আমরা তদন্ত কাজ পরিচালনা করি।
আমরা ইতিমধ্যে যে সকল তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, অভিযুক্ত পেনশন বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট আবু সালেহ মোঃ ইছা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লোন পেমেন্টের বিপরীতে ব্যাংকের ভূয়া স্লিপ তৈরি করে পেমেন্ট দেখিয়ে থাকলেও ব্যাংকে পেমেন্ট না করে আত্মসাৎ করেছেন, যার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি।
পবিপ্রবির একটি অডিট রিপোর্টে এমন ত্রুটি ধরা পড়লে পেনশন বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া কিছু টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা ভুক্তভোগীর নাম সংগ্রহ করেছি, তার মধ্যে পরিবহন শাখার সেকশন অফিসার সবুর খান ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা, পরিবহন শাখার হেলপার আবু জাফর সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা ভূয়া জমা স্লিপ দিয়ে জমা দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
দুদক পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপষ বিশ্বাস প্রতিবেদককে বলেন, অভিযুক্ত পেনশন বিভাগের উপ-পরিচালক রাজিব মিয়া ও ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট আবু সালেহ মোঃ ইছা সম্ভবত আমাদের আসার সংবাদ পেয়ে এখান থেকে চলে গেছেন। আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি, যা প্রধান কার্যালয়কে অবহিত করবো। প্রধান কার্যালয় যেভাবে নির্দেশনা দিবে, সেই অনুযায়ী আরো অধিকতর তদন্ত করবো।
পবিপ্রবি’র হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে পবিপ্রবি‘র শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর জিপিএফ’র ১০% কর্তনের তহবিল থেকে রূপালী ব্যাংক পবিপ্রবি শাখার ৮৩০৫ চলতি হিসাব থেকে মোটরসাইকেল ও কম্পিউটার ক্রয় লোন চালু করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ উক্ত তহবিল থেকে লোন নিয়ে মোটরসাইকেল, কম্পিউটার ক্রয় করেন এবং শর্তানুসারে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন। কেউ কেউ আবার লোন পরিশোধ করে পুনরায় টাকা বাড়িয়ে হালনাগাদ করে নেন। কিন্তু ওই শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা মেরে দেন।
সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ অডিট সেলের কাছে লোন ফান্ডের হিসাবের গরমিলের তথ্য ফাঁস হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদ্বয় নিজেদের ভুল স্বীকার করে ৩২ লাখ টাকা জমাও দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপ-রেজিস্ট্রার (প্লানিং) মোঃ খাইরুল বাসার মিয়া (নাসির) ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ফটোকপি মেশিন অপারেটর শামীম খান ৩ লক্ষ টাকা, ফরিদা বেগম (ঝাড়ুদার, অডিট সেল) ২ লক্ষ টাকা, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার আলম ৭৬,৭২৪ টাকা, মাসুদ (অফিস সহায়ক, বাজেট শাখা) ৩ লক্ষ টাকা—এভাবে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির লোনের কিস্তি পরিশোধের ভূয়া রশিদে ২ কোটি ৬০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

