কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা, ফরিদপুর প্রতিনিধি
শিক্ষার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান, উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৬২ নং চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান উপজেলার শ্রেষ্ঠ গুনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই মর্যাদাপূর্ণ অর্জনের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্টজন। তাঁদের মূল্যবান মতামত থেকে আলমগীর খানের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে উঠেছে।
উপজেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মিয়া রাকিবুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আলমগীর খানের এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়। গুণী শিক্ষকদের এই সম্মাননা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বড় ভূমিকা রাখে।”
প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসের উদ্দিন টিটো এই অর্জনকে তাদের সমিতির জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আলমগীর খান স্যার আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর এই সম্মান আমাদের প্রাথমিক শিক্ষকদের মনোবল আরও দৃঢ় করবে।”
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর কবির বলেন, “আলমগীর খানের এই স্বীকৃতি আমাদের উপজেলাকে গর্বিত করেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি যে নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”
আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোরাদ হোসেন তালুকদার মন্তব্য করেন, “শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। আলমগীর খানের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক যখন শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা পান, তখন তা প্রমাণ করে যে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে তার স্বীকৃতি অবশ্যই মেলে। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একজন পথপ্রদর্শক।”
এই সম্মাননা প্রসঙ্গে আলমগীর খান বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়, এটি আমার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্বটুকু পালন করার চেষ্টা করেছি মাত্র। এই সম্মান আমাকে আরও বেশি উৎসাহের সঙ্গে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আলমগীর খান আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। আমরা আশা করি, তাঁর দেখানো পথে হেঁটে আরও অনেক শিক্ষক এগিয়ে আসবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল এই অর্জনকে উপজেলার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “তাঁর মতো গুণী শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও সমৃদ্ধ হবে।”
আলমগীর খানের এই সম্মাননা আলফাডাঙ্গার সমগ্র শিক্ষক সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা প্রমাণ করে যে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে কাজ করলে তার স্বীকৃতি অবশ্যই মেলে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

