শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, দর্পণ বিসর্জন ও সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে চিতলমারীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর)। সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে দেবীর বন্দনায় বিষাদের সুর বয়ে যায়। এরপর বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হয় এ বছরের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
সকালে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দশমী পূজা সম্পন্ন হয়। এরপর প্রথা অনুযায়ী হাতে অপরাজিতা বাঁধা ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। বিষণ্ণ মনে দেবী মহামায়াকে বিদায় জানান তারা।
বিজয়া দশমীতে দুর্গার বিদায়ের আগমুহূর্তে পূজামণ্ডপগুলোতে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বী সধবা নারীরা। সুন্দর ও মঙ্গলময় আগামীর প্রত্যাশায় সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে ছিল সিঁদুর উৎসবের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে ঢাক-ঢোলের তালে আনন্দে ভাসেন তারা।
সিঁদুরময় এই উৎসবে শুধু নারীরাই নয়, তরুণ-তরুণীদেরও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দেবীকে বিদায় দেওয়ার বেদনা থাকলেও সিঁদুর খেলায় সেই বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন অনেকে। তারা স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করেন—যেন শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে দীর্ঘজীবন লাভ করতে পারেন এবং প্রতি বছর এই পূজাকে আনন্দঘনভাবে উদযাপন করতে পারেন।
উপজেলার চন্ডিভিটা সর্বজনীন দুর্গা মন্দির, পঞ্চপল্লী কেন্দ্রীয় শ্যামা মন্দির, শক্তি উপাসনালয় পাঁচপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দির, চরবড়বাড়িয়া মৈত্রি সমিতি সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিভিন্ন বয়সী নারীদের অংশগ্রহণে সিঁদুর খেলার উৎসবে রঙ ছড়ায়।
নতুন সাজে, মুখে লাল সিঁদুরের আলতো ছোঁয়ায় ভক্তরা এক অন্যরকম মুহূর্তে মেতে ওঠেন। উৎসবের এই রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চিতলমারীর দুর্গোৎসবের বিদায়ী দিন।

