স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
ঈদুল আজহা সামনে রেখে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৮ মণের ষাঁড় ‘বাহুবলী’। ফ্রিজিয়ান শাহীওয়াল জাতের সাদা-কালো রঙের ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। জেলার সবচেয়ে বড় ষাঁড় এটি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই বছর আগে কুষ্টিয়ার আলমডাঙ্গা থেকে ২০০ কেজি ওজনের বাছুরটি কিনে আনেন রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রিপন মিনা। এখন বাহুবলীর বয়স চার বছর।
বুধবার বিকেলে রিপন মিনা বলেন, কোনো কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘাস, খৈল, ভুট্টার গুঁড়া ও চিটাগুড় খাইয়ে ষাঁড়টি বড় করা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করলে ওজন আরও বেশি হতো, তবে শরীরে চর্বি বেড়ে যেত। পরিমিত প্রাকৃতিক খাবারের কারণেই বাহুবলী সুঠাম দেহের অধিকারী হয়েছে। বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। বেশি লাভের কথা ভাবছি না, সুলভ মূল্যে ১০ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি।
ষাঁড়টির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আহাদ মিয়া বলেন, বাহুবলী খুবই শান্ত প্রকৃতির। তবে রেগে গেলে সামলাতে ১০ থেকে ১২ জন লোক লাগে। তাকে বের করলে স্থানীয়রা দেখতে ভিড় জমায়। নিয়ম মেনে তিন বেলা খড়, কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈলসহ দেশীয় খাবার দেওয়া হয়। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করানো হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, এ বছর কোরবানির জন্য নড়াইলে মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১টি, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮টি ও ভেড়া ৫টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৩৯ হাজার ৭৩টি। চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি, যা জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, খামার ও গৃহস্থালির গরু-ছাগল নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা কম-বেশি লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

