দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম শনাক্ত হওয়া ১১ জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ১জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে একজন শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডের ৮ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগিরচর গ্রামের সারমিন খাতুনের ৮ মাস বয়সী শিশু আমেনা খাতুন। গত শুক্রবার শিশুটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির মা জানান, গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে জ্বর, সর্দি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে পরদিন হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে হাম শনাক্ত করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের সংক্রমণের হার বেশি। বিশেষ করে যেসব শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়নি, তাদের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হামের টিকার ঘাটতির কারণে দৌলতপুর উপজেলার অন্তত ২৩০ জন শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত ৩মাসে ১২জন শিশু হামে সংক্রমিত হলে ১১জন শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে একজন শিশু ভর্তি রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা।

