অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার সিহারা গ্রামে মতি মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তথ্যগত অসঙ্গতি ও বিভ্রান্তিকর বর্ণনার অভিযোগ উঠেছে। এতে তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৩১ জানুয়ারি সকালে দুর্গাপুর গ্রামের চরের কান্দা এলাকার একটি ড্রেন থেকে কাদা মাটিতে পোতা অবস্থায় মতি মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মতি স্থানীয় ইয়াকুব মিয়ার একটি মাটি কাটার ভেকু পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তিনি হাওরে পাহারার কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বলে জানা যায়।
মিঠামইন থানা পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর নিহতের স্বজনদের প্রাথমিক বক্তব্য এবং পরে আদালতের মাধ্যমে দায়ের করা এজাহারের তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিডি (নং-১০৩৬, তারিখ: ৩১/০১/২৬)-তে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, পরে মামলার এজাহারে তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, বাদী পক্ষকে থানায় এসে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তারা কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি পিটিশন মামলা (নং-৬৮/২৬) দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরে থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়। এ সময় আদালতকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করে মিঠামইন থানার পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদনও দাখিল করা হয়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, “এজাহারে বর্ণিত সময়, সংখ্যা ও প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তদন্তে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।”
এদিকে মামলার বাদী গোলবাহার সংবাদ সম্মেলন করে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, “প্রায় ৭-৮ জন নয়, বরং ২৪-২৫ জন মিলে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
অন্যদিকে এজাহারভুক্ত আসামি ইসমাইলসহ কয়েকজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুরনো গ্রাম্য বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তদন্তে প্রভাব ফেলতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর একাংশ জানান, নিহত মতি মিয়া ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। তার কোনো দৃশ্যমান শত্রুতা ছিল না বলে অনেকেই মনে করেন। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
এর আগে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও সেগুলোর অনেকগুলোই বিচার ছাড়াই মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্তমানে মামলাটি জটিল অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ বলছে, তথ্যের অসংগতি ও পক্ষগুলোর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সময় লাগছে। তবে তারা আশা করছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

