ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি বিভাগের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। সরকারি ল্যাবে স্বল্প খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলেও রিপোর্ট পেতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগায় বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আসা মানুষজন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শতাধিক রোগীকে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। তবে নির্ধারিত ল্যাব থেকে রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হওয়ায় অনেকেই সময়মতো চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট দেখাতে পারেন না।
এই বিলম্বকে পুঁজি করে হাসপাতালের ভেতর ও গেট এলাকায় দালালদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা রোগীদের দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এতে করে গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরিষা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা করা যায়, কিন্তু রিপোর্ট পেতে অনেক দেরি হয়। দালালরা এসে বলে বাইরে করলে আধা ঘণ্টায় রিপোর্ট পাওয়া যাবে। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা খরচ করতে হয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্যাথলজি বিভাগে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ সাজ্জাদ জহির আল-মাসুম (নিহাদ)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জানা গেছে, তিনি সেদিন ছুটিতে ছিলেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. লিয়া বলেন, “বিষয়টি দুঃখজনক। রিপোর্ট দিতে বিলম্ব কেন হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জাকির হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

