শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী (বাগেরহাট)
বাড়ির আঙিনায় থোকায় থোকায় শোভা পাচ্ছে নানা বিদেশি জাতের ফল। এসব ফল যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি অন্যদের ফলচাষে উৎসাহও জোগাচ্ছে। এমনই ব্যতিক্রমী ফলচাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের সফল ফলচাষি পঙ্কজ মণ্ডল।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনার মাত্র ৭ থেকে ৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফলবাগান। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি জাতের আম, জাম, লিচু, পেয়ারা, জামরুল, মাল্টা, ড্রাগন ফল, কমলা ও আপেলসহ নানা ধরনের ফলের গাছ। বিশেষ করে বিদেশি জাতের ‘হরিমণি-৯৯’ আপেল গাছটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। গাছে ঝুলছে অসংখ্য আপেল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার বাড়িতে এসে আপেল গাছ দেখছেন।
পঙ্কজ মণ্ডল পেশায় একজন লেখক ও সাংবাদিক। পাশাপাশি তিনি চিতলমারী সদর বাজারে কাঠ ও ফার্নিচারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি ফল ও বনজ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন।
পঙ্কজ মণ্ডল জানান, “আমি গাছ খুব ভালোবাসি। সেই ভালোবাসা থেকেই গাছ লাগানোর শুরু। বর্তমানে আমার বাড়িতে শুধু ফলের গাছই নয়, বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির হিজল, বকুল, শিমুল, ছাতিম, তেঁতুল ও নানা ধরনের বটগাছ রয়েছে। এছাড়া অসংখ্য ফুলের গাছও আছে।”
তিনি আরও জানান, তার সংগ্রহে কয়েকশ’ বনসাই রয়েছে। তিনি বরেন্দ্র বনসাই সোসাইটি থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিপুণভাবে বনসাই তৈরি করছেন।
পঙ্কজ মণ্ডল বলেন, “গাছ মানুষকে অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ রক্ষা করে এবং নিজের লাগানো গাছের বিষমুক্ত ফল পরিবারকে পুষ্টি জোগায়। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানো উচিত।”
এলাকার বৃক্ষপ্রেমী বাবলু মণ্ডল বলেন, “গাছ মানুষের পরম বন্ধু। পঙ্কজ মণ্ডল যে ধরনের বিদেশি ফলের চাষ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কেউ তার বাড়িতে গেলে তিনি নিজের বাগানের ফল দিয়ে আপ্যায়ন করেন। আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনায় অন্তত কিছু ফলের গাছ লাগানো।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত-আল-মারুফ বলেন, “সামান্য জায়গায় পঙ্কজ মণ্ডল যেভাবে ফল ও ফুলের গাছের সমন্বয়ে বাগান গড়ে তুলেছেন, তা অনুকরণীয়। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আঙিনার ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সবাইকে ফলচাষে এগিয়ে আসা উচিত।”

