বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হিজলা গ্রামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে উচ্ছেদ মামলা দায়ের করলে আদালত সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মৃত আব্দুল মাজেদ শিকদারের সন্তান আনোয়ার হোসেন সজল, সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মোশারেফ হোসেনের পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে অর্জিত প্রায় চার একর সম্পত্তির মধ্যে ২৫ শতাংশ জমি স্থানীয় মৃত আদম আলী শিকদারের ছেলে ও মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বশির শিকদার এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন সজল জানান, রেকর্ডভুক্ত জমি উদ্ধারে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো অভিযুক্ত পক্ষ বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় আমরা আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিস তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু অভিযুক্তরা আলোচনায় অংশ না নিয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।”
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমি বেদখলমুক্ত করতে একটি উচ্ছেদ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে আগামী ২১ মে’র মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ১৫ মে বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন ও উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার দিন ধার্য করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ওই বৈঠকে উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো মো. ফিরোজ আল মামুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনার আলোকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মো. বশির শিকদার বলেন, “শারীরিক অসুস্থতা ও সার্ভেয়ার উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত দিনে আলোচনায় অংশ নিতে পারিনি।” তিনি দাবি করেন, জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এদিকে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চলমান উত্তেজনার কারণে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ার হোসেন সজল। বিষয়টিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

