আমিনুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিখোঁজের সাড়ে ২১ ঘণ্টা পর প্রতিবেশী চাচার বাড়ির পিছন থেকে শিশু হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পরিবারের লোকজন।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে নিখোঁজ হলে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে, পুকুর, বাগান এবং জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালালেও কোনো সন্ধান মিলছিল না শিশুটির। পরদিন শনিবার সকাল ৮টায় নিখোঁজ জান্নাতের বাবা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে কন্যা শিশুর সন্ধান দিলে ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। এরপর বেলা ৩টার পরে প্রতিবেশী চাচার বাড়ির পাশে থেকে মৃত অবস্থায় হুমায়রা জান্নাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাত উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হুমায়রা জান্নাত।
জান্নাতের বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত বলেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মেয়েকে বিষ খাওয়ানো হয়েছে দাবি করে বলেন, তার মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছিল। এছাড়াও আমার মেয়ের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শান্ত বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের বাড়ির পিছনে খেজুর গাছের নিচ থেকে যখন আমার মেয়েকে কোলে তুলে নিই তখন মনে হচ্ছিল যেন তার পুরো শরীরে রক্ত জমাট বেঁধেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে জানান, শিশুটির শরীরে বড় আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে পেট বেশ ফোলা ও বাম হাতসহ কিছু জায়গায় ছোট ছোট জখমের চিহ্ন পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়নি। শিশুটির লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হবে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, নিখোঁজের একদিন পর শিশুটিকে পাশের বাড়ির পিছনে কে বা কারা ফেলে রেখে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, শিশুটির কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

