জয়পুরহাট প্রতিনিধি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন হাটে দেশীয় জাতের গরু, ছাগল ও ভেড়ার ব্যাপক আমদানি হলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। এদিকে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটে এবার প্রায় ২৪ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪টি গরু, ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৯১টি ছাগল, ৫০ হাজার ৯০টি ভেড়া এবং ২৩৮টি মহিষ।
এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি। চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ২০টি পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট পশুরহাট ঘুরে দেখা যায়, প্রচুর দেশীয় গরু আমদানি হয়েছে। জয়পুরহাট ছাড়াও নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারিরা গরু নিয়ে এসেছেন। তবে আমদানির তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা।
সদর উপজেলার চকবরতক গ্রামের খামারি রবিউল ইসলাম বলেন, “৪টি গরু নিয়ে এসেছি। দাম অনেক কম বলছে। এই দামে বিক্রি করলে গরু প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান হবে।”
জামালগঞ্জের নিয়ামত হোসেন বলেন, “তিনটি গরু নিয়ে এসেছি। দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু একজন ক্রেতাও দাম করেনি।”
দোগাছি গ্রামের জাহিদ হোসেন বলেন, “হাটে অনেক গরু এসেছে, কিন্তু ক্রেতা কম। একটা গরু ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি, কিছুটা লাভ হয়েছে।”
অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ বর্তমান দামকে স্বাভাবিক বললেও ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন।
পাঁচবিবির বড়মানিক এলাকার মোকলেছুর রহমান বলেন, “মাঝারি ও ছোট গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে কোরবানি দিতে হবে, তাই কিনতেই হবে।”
সদরের আমদই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমদানি প্রচুর হওয়ায় দাম মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। ৯৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।”
ফেনী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী লিটন আহমেদ বলেন, “৭টি বলদ কিনেছি। দাম খুব বেশি নয়। এখান থেকে গরু কিনে ফেনীর হাটে নিয়ে বিক্রি করবো।”
কুমিল্লার ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, “ছোট গরুর দাম বেশি, তবে বড় গরুর দাম কম। ৮টি গরু কিনেছি, আরও কিনবো।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহির উদ্দীন জানান, জয়পুরহাটের ২৭টি হাটে পশু কেনাবেচা চলছে। হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল টিম কাজ করছে। অসুস্থ পশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনেও পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাটে সার্বিক নিরাপত্তা, জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা করতে পারেন।

