কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা সদরের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বড় বড় গর্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পরিবহন চালকসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এ সড়কটি উপজেলা সদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারে না, ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। চলন্ত যানবাহনের ছিটানো কাদা-পানিতে পথচারীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
ক্ষুদে শিক্ষার্থী জারা বলে, “রাস্তা ভাঙা থাকায় স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাদা-পানিতে আমাদের স্কুল ড্রেস ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। আমরা চাই সরকার দ্রুত নতুন করে রাস্তাটি নির্মাণ করুক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রুহুল আমিন বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা পানিতে ডুবে যায়। আমার হোটেলের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে। তখন ইট বিছিয়ে চলাচল করতে হয়।”
রিকশাচালক আব্দুর রহমান বলেন, “রাস্তায় এত গর্ত যে প্রায়ই রিকশা নষ্ট হয়। সারাদিনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করি, তার বেশিরভাগই মেরামতে চলে যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও ঘটে।
ব্যবসায়ী মো. লিমন হোসেন বলেন, “উপজেলা সদরে প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—সবারই ভোগান্তি বাড়ছে।”
কাঠালিয়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুজ্জামান সিকদার বলেন, “থানা থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী। বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকে, আর বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।”
এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন বলেন, “সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

