কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ প্রসবে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গোপালগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক নির্বাচিত হয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নে কর্মরত অনিমেষ চন্দ্র বিশ্বাস।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। গত ১২ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রাফিকউজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মো. ফারুক, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সোহেল পারভেজসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনিমেষ চন্দ্র বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বেথুড়ী ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পরিবার পরিকল্পনা ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তিনি মাঠপর্যায়ে দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহিত করতে নিয়মিত কাজ করছেন।
এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে অনিমেষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করেছি। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। এ অর্জনের পেছনে যাঁদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে, তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
কাশিয়ানী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, “অনিমেষ চন্দ্র বিশ্বাসের নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতা মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। তাঁর এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, কাশিয়ানী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জন্যও গৌরবের।”

