Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২৫ জুলাই ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে মাদারীপুরের শকুনি লেক, কাঁচাবাজারে বাড়ছে যানজট

মাদারীপুর প্রতিনিধি
জুলাই ২৫, ২০২৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাদারীপুর প্রতিনিধি

একসময় প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মাদারীপুরের শকুনি লেক। তবে দখল, অপরিকল্পিত কাঁচাবাজার, পরিবেশ দূষণ, ভাঙাচোরা অবকাঠামো এবং তীব্র যানজটের কারণে জেলার একমাত্র এই বিনোদনকেন্দ্র এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। লেকের নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রায় ২০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত শকুনি লেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ২০১৪ সালে প্রায় ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় মাদারীপুর পৌরসভা। প্রকল্পের আওতায় ওয়াকওয়ে, শান্তি ঘাটলা, কৃত্রিম ঝর্ণা, স্বাধীনতা অঙ্গন, শহিদ কানন চত্বর, শিশু পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার, বসার স্থান ও আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং লেকপাড়ে অবৈধ কাঁচাবাজার গড়ে ওঠায় কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সৌন্দর্য অনেকটাই হারিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াকওয়ের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে হাঁটার পথ, আবার কোথাও লেকপাড়ে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। বাজারের বর্জ্য লেকে ও আশপাশে ফেলার কারণে পানির রং পরিবর্তিত হয়েছে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

লেকের পূর্বপাশে পুলিশ লাইন থেকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল অস্থায়ী কাঁচাবাজার। সেখানে অন্তত শতাধিক দোকানে সবজি, মাছ, ফল, কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লেকপাড়জুড়ে রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান। পৌরসভার উদ্যোগে কিছু খাবারের দোকান উচ্ছেদ করা হলেও কাঁচাবাজার এখনো বহাল রয়েছে।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল মোতালেব বলেন, “চার বছর ধরে এখানে রাস্তার ওপর ব্যবসা করছি।” ফল বিক্রেতা রুবেল খান বলেন, “তিন বছর ধরে এখানে ফল বিক্রি করছি। এখানে ব্যবসা করতে কাউকে কোনো টাকা দিতে হয় না।”

স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় হাসান বলেন, “এটি জেলা সদর হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। রাস্তার ওপর বাজার বসার কারণে প্রতিদিন যানজট হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।”

সাংবাদিক বেলাল রিজভী বলেন, “পুলিশ লাইন থেকে হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে শতাধিক অস্থায়ী দোকান রয়েছে। যানজটের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শকুনি লেকের সৌন্দর্যও দিন দিন নষ্ট হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা জিতু আলম বলেন, “আগে মানুষ লেকের সৌন্দর্য দেখতে আসত। এখন বেশি মানুষ আসে রেস্টুরেন্টে খেতে কিংবা বাজার করতে। দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তদারকির অভাবেই এই অবস্থা।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বাজারের বর্জ্য লেকের আশপাশে ফেলার কারণে পরিবেশ ও পানির মান নষ্ট হচ্ছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ লাইন থেকে হাসপাতালের মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু প্রথমে মন্তব্য করতে না চাইলেও পরে বলেন, “বাজার আমি বসাইনি। ওটার দায়িত্ব আমার না।”

অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, “লেক পার্ক মানুষের বিনোদনের স্থান। সেখানে বাজার বসার কোনো সুযোগ নেই। বাজারের বর্জ্যে লেকের পরিবেশ ও পানির মান নষ্ট হচ্ছে। খুব শিগগিরই লেকপাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনোভাবেই লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।