দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মন্টু (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে মন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে দৌলতপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে মন্টুর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধর্মদহ এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সামিরুল শাহের ছেলে আবু সাঈদ শুক্রবার দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মন্টুকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন ধর্মদহ এলাকায় আদাবাড়িয়া ব্যাংগাড়ি-ধর্মদহ সড়কের পাশের একটি মাঠে বাঁশের মাচার ওপর থেকে সামিরুল শাহ (৬০)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের শরীর ও মুখে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তিনি তেকালা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বিশারদ শাহের ছেলে এবং পেশায় একজন চা বিক্রেতা ছিলেন।
নিহতের বড় ছেলে আবু সাঈদ জানান, ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার সকালে তিনি, তার বাবা ও দুই মামা বড়গাংদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারাগুনিয়া থানা মোড়ে একই এলাকার মন্টু ফোন করে তার বাবাকে দেখা করতে বলেন। ফোন পেয়ে সামিরুল শাহ পরিবারের সদস্যদের বাড়ি যেতে বলে মন্টুর সঙ্গে থেকে যান। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ও রাতে মন্টুর কাছে খোঁজ নেওয়া হলেও তিনি কোনো সন্তোষজনক তথ্য দেননি। পরদিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে রাস্তার পাশের একটি বাঁশের মাচায় সামিরুল শাহের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান পরিবারের সদস্যরা।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “চা বিক্রেতা সামিরুল শাহ হত্যা মামলায় মন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

