আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে নতুন স্কুলব্যাগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুর্গম এলাকার ৪৭৩ জন শিক্ষার্থী। নতুন ব্যাগ হাতে পেয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে কোমলমতি শিশুরা। শিক্ষা উপকরণ পেয়ে তারা আরও আগ্রহ নিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যাগ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার হোসেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার লস্কর, পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান আরবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, যোগীবরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮২টি, ধুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৯টি, পশ্চিম চর নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৯টি, কুঠারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬২টি, চাঁন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭২টি, চর-পাচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৪টি এবং চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫টি স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
যোগীবরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন, আবির হোসেন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওলিফা ও আমির হামজা জানায়, নতুন ব্যাগ পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত। এখন তারা আরও উৎসাহ নিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তাদের মুখের হাসিই এ উদ্যোগের সফলতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এবং ঝরে পড়া রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, “কোনো শিশুই যেন অভাবের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

