মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদীর ধসে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছেন স্থানীয় মাছের ঘের মালিকরা। রোববার (২ আগস্ট) থেকে দুটি সুপার-৫ এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে বাঁধটি সংস্কারের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় যুগ আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধটি সংস্কার করলেও পরে আর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটি মাছের ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি অবহেলিত ছিল বলে দাবি তাদের।
গত রোববার বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়লে নদীর পানি অন্তত পাঁচটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ভবদহ সংলগ্ন প্রায় ৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শত শত মাছের ঘের ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী ও খালের ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার খননকাজ ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার সঞ্চার করেছিল। তবে বর্ষা মৌসুমে আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভবদহ স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে গত ২৫ জুলাই থেকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ব্রিজসংলগ্ন তেলেগাতী নদীতে দুটি ভাসমান ড্রেজারের মাধ্যমে পলি অপসারণের কাজ চলছে। এতে পানি নিষ্কাশনের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে এবং প্লাবিত এলাকা থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে বলে দাবি পাউবোর।
লখাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্ত মল্লিক বলেন, “বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ধসে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘের মালিকরাই নিজ উদ্যোগে এক্সকাভেটর দিয়ে মেরামতের কাজ করছেন।”
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, “ওই বাঁধটি পাউবোর আওতাধীন নয়। কেউ যদি এটিকে পাউবোর বাঁধ বলে দাবি করেন, সেটি তাদের নিজস্ব বক্তব্য।”

