ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থের অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং চিকিৎসাসেবার মান অবনতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের একটি অংশ নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অফিস সরঞ্জাম, মনিহারী সামগ্রী, সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার, আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামত এবং কম্পিউটার মেরামতসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরাদ্দের অর্থ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান বলেন, বিল-ভাউচারে উল্লেখিত মালামাল তিনি দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকট, অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে না এবং রোগীদের সেবার মানও ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, রোগীদের খাবারের মান এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় সরকারি নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে তাকে হিসাব বিভাগের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ফলে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাব।”
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

