অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে ৫৪ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি তবলা মাছ। মঙ্গলবার সকালে মাছটি মহিপুর মৎস্যবন্দরে আনা হলে ডাকের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী রুবেল ঘরামী ৩৬ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন। এতে প্রতি কেজির দাম পড়ে প্রায় ৬৬৭ টাকা।
জানা যায়, এফবি সালমা করিম নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে আঁখি ফিশ ও তহুরা ফিশ আড়তের মাধ্যমে মহিপুর মৎস্যবন্দরে নিলামে তোলা হলে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিশাল আকৃতির মাছটি দেখতে এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী, জেলে ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটি জায়ান্ট ট্রেভ্যালি (Caranx ignobilis), যা ক্যারাঙ্গিডি (Carangidae) পরিবারের একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক শিকারি মাছ। সাধারণত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র, উপকূলীয় এলাকা ও প্রবালপ্রাচীরসংলগ্ন অঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়। এ প্রজাতির মাছ দৈর্ঘ্যে এক মিটারের বেশি এবং ওজনে প্রায় ৮০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, জায়ান্ট ট্রেভ্যালি বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। কুয়াকাটা ও মহিপুর অঞ্চলে এটি তবলা, বোগা বা খন্দোয়া মাছ নামে পরিচিত। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে এ মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ছোট মাছ, কাঁকড়া ও স্কুইডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বড় আকৃতির এ মাছের উপস্থিতি সুস্থ সামুদ্রিক পরিবেশের একটি ইতিবাচক সূচক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজিব সরকার বলেন, জায়ান্ট ট্রেভ্যালি দ্রুত বর্ধনশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান একটি সামুদ্রিক মাছ। টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্য এ ধরনের বড় মাছের সঠিক শনাক্তকরণ, আকার-ওজন এবং আহরণের স্থান নথিভুক্ত করা জরুরি। প্রয়োজনে ডিএনএ বারকোডিংয়ের মাধ্যমে প্রজাতি নিশ্চিত করা যেতে পারে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলের জালে ধরা পড়া মাছটি ক্যারাঙ্গিডি পরিবারের একটি মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ, যা আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে।

