দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশুর জন্মের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। তবে অর্থাভাবে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শিশু দুটির জন্মের তিন মাস পূর্ণ হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এ সময় তাদের ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান বলেন, “সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে যে পরিমাণ অর্থ দরকার, তা জোগাড় করতে পারিনি। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসা না করাতে পারলে তাদের সুস্থ রাখা যাবে কি না, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে।” কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসানের স্ত্রী সানজিদা ইয়াসমিন মুক্তা গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়ালাগা যমজ কন্যাশিশুর জন্ম দেন। পরে তাদের নাম রাখা হয় উম্মে জয়নব ও উম্মে কুলসুম।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু দুটিকে আলাদা করার জন্য একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। এ জন্য জন্মের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার পর আবার ঢাকায় নিয়ে আসতে পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে শিশু দুটিকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে তাদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সময়সূচি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পরিবারটি জানিয়েছে, সন্তানদের চিকিৎসার জন্য তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতা কামনা করছেন।

