মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরে মোবাইল গেম ফ্রি ফায়ার ও পাবজি খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান আল আবির (১১) হত্যা মামলায় দুই কিশোরকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দেশের স্মার্টফোন থেকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৬)-কে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৬)-কে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া উভয়কে ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুজাহিদ গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং হামিম একই গ্রামের নুহু নবীর ছেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, ২০২১ সালের ২৬ জুন বিকেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আসাদুজ্জামানের ছেলে রেজোয়ান আল আবিরকে তার দুই বন্ধু মুজাহিদ ও হামিম বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বের হওয়ার সময় আবির তার মায়ের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নেয়।
পরে তিনজন মোটরসাইকেলে করে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর আবিরের ব্যবহৃত ইমো নম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় থাকা তার বাবার কাছে হিন্দি ভাষায় ফোন করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আবিরকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে অবহিত করেন।
তদন্তে পুলিশ দুই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে আবিরকে গাংনী উপজেলার মানিকদিয়া বালিয়ার গাড়ির মাঠ এলাকায় হত্যা করার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা রোজিনা খাতুন গাংনী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
পিপি মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, আদালত বিটিআরসিকে দেশের স্মার্টফোন থেকে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার আব্দুল মতিন শুনানিতে অংশ নেন।

