দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু নুরিয়া খাতুনের মরদেহ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার বারইপাড়া ইউনিয়নের ছয়মাইল শিমুলতলা এলাকার পদ্মা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নুরিয়া খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ গ্রামের আশিক শেখের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর উপজেলার ছয়মাইল শিমুলতলা এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা সেটি নদীর তীরে আটকে রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিখোঁজ শিশুর স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি নুরিয়া খাতুনের বলে শনাক্ত করেন।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ভূরকাপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙনরোধে ফেলা জিও ব্যাগের ওপর বসে খেলছিল নুরিয়া ও জামিলা নামে দুই শিশু। হঠাৎ নদীর পাড় ধসে জিও ব্যাগসহ তারা নদীতে পড়ে যায়। জামিলা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নুরিয়া প্রবল স্রোতে তলিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দৌলতপুর থানা পুলিশ এবং খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। টানা ২৮ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর অবশেষে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

