দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা বিক্ষোভ সমাবেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচি চলে। এ সময় ইউএনও কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ নেতা-কর্মী ও সমর্থক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টা ১১ মিনিটের দিকে ইউএনও কার্যালয়ের কেচিগেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। প্রায় সাত মিনিট ধরে এ পরিস্থিতি চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
কর্মসূচিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা এবং পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর অপসারণসহ ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাই ও বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। এ সময় ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর অভিযোগ করে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ বাতিল করে যোগ্যদের নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের লোকজনকে ধরে ধরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ইউএনওকে আর চাই না।’
কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটাতে পেরেছি। ইউএনও দ্রুত কুমারখালী ত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।’
পরে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ইউএনও ফারজানা আখতার কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন।
কর্মসূচি শেষে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবু কাউসার অপু সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রদলের যোগ্য ছেলেপেলে থাকা সত্ত্বেও ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদেই আজকের কর্মসূচি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনও ফারজানা আখতারকে অপসারণ করতে হবে এবং শুমারির ফলাফল বাতিল করতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল সকাল ১০টায় কঠোর আন্দোলন করা হবে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘ডিসি স্যারের নির্দেশনায় কুমারখালীতে গিয়েছিলাম। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। ইউএনওর অপসারণের বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

