স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের নামে ‘সুলতান সম্মাননা পদক-২০২৬’ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ও চিত্রশিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. আব্দুস সাত্তারের হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এমপি।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, চারুকলা বিভাগের পরিচালক আব্দুল হালিম চঞ্চল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধান আছাদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক রেজা আসাদ আল হুদা অনুপম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস এবং শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এস এম সুলতান ছিলেন মাটি ও মানুষের শিল্পী। তাঁর চিত্রকর্মে বাংলার কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর শিল্পকর্ম দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
সম্মাননা পাওয়া চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের অধ্যাপক। একুশে পদক-২০২৬ প্রাপ্ত এই শিল্পী প্রাচ্য শিল্পরীতি, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ও প্রাচ্য ম্যুরাল এবং আধুনিকতার সংমিশ্রণে শিল্পকর্ম সৃষ্টির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর ২০টির বেশি প্রকাশনা রয়েছে, যেগুলোর বেশ কয়েকটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফারেন্স বই হিসেবে তালিকাভুক্ত।
উল্লেখ্য, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ হিসেবে খ্যাত এই শিল্পীকে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামে অবস্থিত স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে সমাহিত করা হয়।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এস এম সুলতানের জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হয়।

