সুব্রত সরকার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
‘বই কিনুন, বই পড়ুন, আলোকিত হন, প্রিয়জনকে বই উপহার দিন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাগুরার মহম্মদপুরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ এবং একক অভিনয়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এ আয়োজন করে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য দেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সংগঠক মো. রুহোল আমিন। পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রণব কুমার পোদ্দার এবং মহম্মদপুর প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, “বই কিনে কেউ কোনোদিন দেউলিয়া হয় না। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে পাঠ্যবই বা মূল বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। শর্টকাট উপায়ে পরীক্ষায় পাস করাই যেন অনেকের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোকিত মানুষ হতে হলে পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তির এ যুগে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ফিতা কেটে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নিজস্ব প্রকাশনাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজারের বেশি বই প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য রাখা হয়।
মেলার শেষ দিনে প্রতিযোগী, বইপ্রেমী ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

