দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বুক ও পেট জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমকে বাঁচানো গেল না। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে দুই বোনকে একই কবরে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অশ্রুসিক্ত নয়নে শিশু দুটিকে শেষ বিদায় জানান স্বজন ও গ্রামের মানুষ।
নিহত শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছিল। চিকিৎসকেরাও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমরা বুকভরা আশা নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমার দুই সন্তানকে তুলে নিয়েছেন।”
দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
দরিদ্র পরিবারের শিশু দুটির চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে সরকার তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের উদ্যোগে সোমবার শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছিল।
পরিবারের সদস্য জাহিদ হোসেন জানান, বুধবার দুপুরের পর হঠাৎ শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

